November 5, 2026
WhatsApp Image 2026-11-05 at 10.48.19 AM

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথ। নতুন পর্যটন মৌসুমের প্রথম দিনেই ৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে পর্যটকবাহী জাহাজ এমভি আউলিয়া বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজারের বিডাব্লিউটিএ জেটিঘাট ছেড়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই ঘাটজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভ্রমণ দল নিয়ে শত শত মানুষ জড়ো হন। সাগরের ঢেউ, শীতের মৃদু বাতাস আর পর্যটকদের উচ্ছ্বাস মিলিয়ে মৌসুমের প্রথম যাত্রা হয়ে ওঠে আনন্দময়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নিযুক্ত প্রতিনিধি ও কক্সবাজার সদর উপজেলার ভূমি কমিশনার মশিয়ুর রহমান বলেন, ‘মৌসুমের প্রথম জাহাজটি নির্ধারিত সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে যাত্রা শুরু করেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।’

সি ক্রুজ অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন মৌসুমে প্রথম দিনেই ৮ শতাধিক পর্যটকের উপস্থিতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এটি প্রমাণ করে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের প্রতি মানুষের আগ্রহ আগের মতোই রয়েছে। বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা আর সেন্টমার্টিনের মানুষের কথা চিন্তা করে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।’

বাহাদুর আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা, সময়নিষ্ঠা, পরিবেশ ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পর্যটকদের আস্থা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জাহাজ, সাগর আর সেন্টমার্টিনের পরিবেশ দূষণের বিষয়ে পর্যটকদের কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। যাতে প্লাস্টিকের বোতল থেকে শুরু করে পরিবেশ নষ্ট হয়- এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার তাগাদা দেওয়া হয়েছে।’

জাহাজে থাকা পর্যটকদের মুখেও ছিল ভ্রমণের উচ্ছ্বাস। ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘অনেক দিন ধরে পরিকল্পনা করছিলাম সেন্টমার্টিনে যাবো। মৌসুমের প্রথম জাহাজে যেতে পেরে খুব ভালো লাগছে। সকালে সমুদ্রের সৌন্দর্য দেখে মনে হচ্ছে যাত্রাটাই যেন ভ্রমণের অর্ধেক আনন্দ।’

সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এর স্বচ্ছ নীল জল, প্রবাল, নারিকেল গাছ, মনোরম সৈকত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দীর্ঘদিন ধরেই আকর্ষণ করে আসছে। প্রতিবছর শীত মৌসুমে এই দ্বীপে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সমুদ্রের বৈরী আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নির্ধারিত সময়ে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *