চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে এক পাল্টাপাল্টি গুলির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিএসএফের ছোঁড়া গুলিতে মনিরুল ইসলাম (২৬) নামের এক বাংলাদেশি যুবক আহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে সীমান্ত এলাকায় এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যখন স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী হরিহরনগর গ্রামের বাসিন্দা মনিরুলসহ সাতজনের একটি দল ডিঙিনৌকায় চড়ে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কাছাকাছি সোনা পাচারের উদ্দেশ্যে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সেই সময় ভারতের টুঙ্গি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করলে মনিরুলের ডান পায়ে গুলি লাগে এবং পরবর্তীতে বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে আটক করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন, অন্যদিকে তাঁর সঙ্গে থাকা বাকি ছয় সদস্য পাশের খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মরক্ষা করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ৫৮ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর তোয়াসীন হাবীব হাসান ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, বিএসএফ সদস্যরা একটি গুলি ছুড়লে সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবির টহল দল তাত্ক্ষণিকভাবে অবস্থান নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে এবং পাল্টা দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। বিজিবির মহেশপুর ব্যাটালিয়ন থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সীমান্তের ওপার থেকে গুলির শব্দ শোনার পরপরই মেদিনীপুর ক্যাম্পের বিজিবি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে পাল্টা গুলি বর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাটি সম্পর্কে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানিয়েছেন যে, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন, যদিও এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত প্রতিবেদন থানায় পৌঁছায়নি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত গোলাগুলির ঘটনার পরপরই সীমান্তে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজিবি টহল ও নজরদারি সার্বিকভাবে অত্যন্ত জোরদার করেছে এবং বিএসএফের সাথে উচ্চপর্যায়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। একই সাথে ঘটনার সঠিক প্রেক্ষাপট ও কারণ অনুসন্ধানে বিজিবি খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে সীমান্তের শূন্যরেখায় একটি পতাকা বৈঠকের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
