October 16, 2026
image (59)

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ী সীমান্তে মাদক কারবারিকে ধাওয়া করতে গিয়ে ভুলবশত ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের হাতে আটক হওয়া বাংলাদেশের দুই পুলিশ সদস্যকে দীর্ঘ প্রায় পনেরো ঘণ্টা পর গত শুক্রবার দুপুরে এক ফলপ্রসূ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাহ্মণপাড়া থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে রাত্রিকালীন টহল ও দায়িত্ব পালন করার সময় রাত সাড়ে দশটার দিকে শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালানের সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্য পান, যার ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযানে গিয়ে তাঁরা এক মাদক কারবারির সন্ধান পান এবং পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তি দ্রুত দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান তাঁর পেছনে ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে ধাওয়া করতে করতে কনস্টেবল রোহিত সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারসংলগ্ন উন্মুক্ত ও কাঁটাতারের বেড়াবিহীন এলাকা দিয়ে ভুলবশত ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ফেললে সীমান্তের ওপারে ওত পেতে থাকা বা অবস্থানরত কতিপয় ভারতীয় নাগরিক তাঁকে ঘিরে ধরে আটক করেন, এবং পরবর্তীতে সহকর্মী কনস্টেবলকে উদ্ধার করতে ও ছাড়িয়ে আনতে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরান হোসেন এগিয়ে গেলে তাঁকেও আটক করা হয়, যার ফলে মুহূর্তেই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে এবং খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিএসএফ সদস্যরা দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যান। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দ্রুত সুরাহা করতে তাৎক্ষণিকভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়, যার ফলস্বরূপ পরদিন শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে নারায়ণপুর সীমান্তের ২০৫৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকার শূন্যরেখায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, দেবীদ্বার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহিন, ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন এবং শশীদল বিওপির কমান্ডার সুবেদার মোহাম্মদ তাকবীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ী প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে এই ফ্ল্যাগ মিটিং সম্পন্ন হয়, যার মাধ্যমে বিএসএফ দুই পুলিশ সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে এবং পরবর্তীতে বিজিবির সহযোগিতায় তাঁরা সসম্মানে নিজ দেশে ফিরে আসেন। জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে জানান যে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের সীমান্ত এলাকা ও ভৌগোলিক সীমারেখা সম্পর্কে আরও অধিক সতর্ক থাকার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, কারণ আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকাটি মাদকের একটি পরিচিত প্রবেশদ্বার হওয়া সত্ত্বেও সেখানে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় অতীতেও এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, যেমনটি ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর র‍্যাবের কয়েকজন সদস্যের ক্ষেত্রেও ঘটেছিল, যা সীমান্ত সুরক্ষায় পারস্পরিক সমন্বয় ও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় জোরালোভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *