২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক রদবদল হলেও বন অধিদপ্তরে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, শুধু মন্ত্রী বদল হলেও বন অধিদপ্তরের ‘দুর্নীতির সিন্ডিকেট’-এ তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি। বরং ক্ষমতার পালাবদলের পর একাংশের কর্মকর্তা নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে দুর্নীতি ও অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) আমির হোসাইন চৌধুরী, বন সংরক্ষক (সিএফ) এসএম মনিরুল ইসলাম এবং সিএফ হোসাইন মুহাম্মদ নিশাদ-সহ কয়েকজন কর্মকর্তা। অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী শাহাবুদ্দিন ও তাঁর ছেলে জাকির হোসেনকে ঘিরে যে প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছিল, ক্ষমতার পালাবদলের পরও তার প্রভাব পুরোপুরি দূর হয়নি। বন উজাড়, কাঠ পাচার, সুফল প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি সূত্রের।
সূত্রের দাবি, ২০১৬-১৭ সালে সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এসএম মনিরুল ইসলাম প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। পরবর্তীতে বন বিভাগের নিয়োগ ও বদলিতে তাঁর প্রভাব বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ। সিলেটে কর্মরত থাকার সময় তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল অবৈধ আয়ের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে মনিরুল ইসলাম কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক এবং সামাজিক বন অঞ্চলের বন সংরক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি আগারগাঁওয়ের বন অধিদপ্তরে অর্থ ও প্রশাসন সংক্রান্ত দায়িত্বে রয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। দপ্তরের একাংশের কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, তাঁর প্রভাব এখনও বন অধিদপ্তরের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে রয়েছে।
এদিকে একই ব্যাচের কর্মকর্তা মোল্লা রেজাউলকে তুলনামূলকভাবে সৎ কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে একটি সূত্র। তাঁর বদলি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তাঁকে বরিশাল বিভাগে বদলি করা হয় বলে দাবি। তাঁর জায়গায় চট্টগ্রাম বিভাগে বন সংরক্ষক হিসেবে মিহির কুমার দে-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁকে ঘিরেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে সূত্র, যদিও এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ মেলেনি।
বন অধিদপ্তরে পদোন্নতি, নিয়োগ ও বদলি নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। সূত্রের দাবি, ৪১৮ জনের পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে শত কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে। বিভিন্ন চেকপোস্টে কর্মকর্তা পদে এক বছরের জন্য ২০ লাখ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ১০ লাখ এবং তৃতীয় শ্রেণির পদে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা পদে দুই বছরের জন্য ৫০ লাখ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য ৩০ লাখ এবং তৃতীয় শ্রেণির জন্য ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এর পাশাপাশি নিয়মিত ‘মাসোহারা’র অভিযোগ রয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ৪৫৪ জনকে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এরপর ২০২৬ সালে আরও ৪১৮ জন ডেপুটি রেঞ্জারকে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ‘গ্র্যাজুয়েশন তালিকা’ তৈরির নাম করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে।
