ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর পরিত্যক্ত বাসভবনের প্রধান ফটক ড্রিল মেশিন দিয়ে কেটে ভেঙে ফেলেছে একদল শিক্ষার্থী। আজ বুধবার দুপুরে শহরের রোনালসে রোড এলাকায় অবস্থিত ওই বাড়িতে গিয়ে ‘জুলাই ছাত্র আন্দোলনের কর্মী’ পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীরা এই পদক্ষেপ নেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বাড়িটি জনশূন্য ও পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।
দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকা এই বাড়ির সামনে সম্প্রতি কে বা কারা টিনের বেড়া দিয়ে প্রধান ফটকটি আটকে দিয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনমানবহীন এই বাড়িতে রাতের আঁধারে মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ছিল এবং আশপাশের লোকজন সেখানে ময়লা ফেলে স্তূপ করে রাখছিলেন। আজ দুপুরে একদল শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রথমে সামনের টিনের বেড়াটি সরিয়ে ফেলেন। এরপর ড্রিল কাটার ব্যবহার করে বাড়ির লোহার প্রধান ফটকটি পুরোপুরি কেটে ফেলেন তারা। এর ফলে বাড়ির ভেতরের অংশ এখন সাধারণ মানুষের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতা মো. লিখন গণমাধ্যমকে জানান, এই বাড়িটি ফ্যাসিবাদের দোসরদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত ছিল। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা মনে করেন, কোনো স্বৈরাচারী শক্তির চিহ্ন এভাবে ঘিরে রাখা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, “আমরা এই আস্তানাটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি। প্রয়োজনে এটিকে শহরের ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা হবে, এমনকি কেউ চাইলে এখানে গণশৌচাগারও নির্মাণ করতে পারেন।” শিক্ষার্থীদের দাবি, গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতেই তারা এই দেয়াল ও ফটক অপসারণ করেছেন।
এদিকে দিনের আলোতে প্রকাশ্য দিবালোকে ড্রিল মেশিন দিয়ে গেট কাটার এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত বা আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল ও পরিস্থিতির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে বাড়িটি কোনো প্রহরা ছাড়াই অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ফটক ভেঙে ফেলায় বাড়িটি এখন সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে গেল, যা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এলাকায়। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন।
