ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হলেও নাটকীয়ভাবে মাঝপথে স্থগিত করা হয়েছে ভোট গণনার কাজ। গতকাল উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও মধ্যরাতে ভোট গণনা চলাকালীন সময়ে কারচুপির অভিযোগ এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে এবং ভোটার তালিকায় অমিলসহ বেশ কিছু যান্ত্রিক ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ধরা পড়লে সাধারণ আইনজীবী ও প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এক পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনারদের সাথে প্রার্থীদের বাকবিতণ্ডা চরম আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, যার ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফলাফল ঘোষণা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
সকাল থেকেই আইনজীবী সমিতি ভবনে ভোটারদের দীর্ঘ সারি এবং ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। মোট ১৭টি পদের বিপরীতে একাধিক প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী কয়েকটি পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফলাফল আর আলোর মুখ দেখেনি। পরাজিত হতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকে কোনো কোনো পক্ষ ব্যালট পেপার ছিনতাই বা গণনায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, সাধারণ আইনজীবীরা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, আদালতের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত আইনজীবী সমিতির এই ধরনের বিশৃঙ্খলা পেশাগত মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে।
বর্তমানে আদালত প্রাঙ্গণে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং আইনজীবীদের সকল পক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুতই পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হবে নাকি স্থগিত হওয়া স্থান থেকেই গণনা শুরু হবে, তা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঐক্যমত্য হয়নি। আইনজীবীদের বৃহত্তর স্বার্থে এবং সমিতির স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। যত দ্রুত সম্ভব এই সংকট নিরসন করে একটি গ্রহণযোগ্য ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমেই সমিতির স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
