সেপসিস একটি প্রাণঘাতী শারীরিক অবস্থা, যেখানে সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়া দেখায়। এর ফলে কিডনি, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
কেন হয় সেপসিস?
ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের সংক্রমণ থেকে সেপসিস হতে পারে। নিউমোনিয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ, পেটের ভিতরের সংক্রমণ, মেনিনজাইটিস, সংক্রমিত ক্ষত এবং অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণ এর অন্যতম কারণ। সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। তবে সেপসিস মানেই রক্তে জীবাণু ছড়িয়ে পড়া নয়; রক্তের কালচার নেগেটিভ হলেও এই রোগ হতে পারে।
কোন লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হবেন?
জ্বর বা শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমে যাওয়া, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, প্রচণ্ড দুর্বলতা এবং সংক্রমণের সঙ্গে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি সেপসিসের লক্ষণ হতে পারে। গুরুতর অবস্থায় রোগীর বিভ্রান্তি, শ্বাসকষ্ট, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যেতে পারে।
সেপসিসে আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্ক, কিডনি, ফুসফুস ও রক্তসংবহনতন্ত্রের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। ঠোঁট বা ত্বক ফ্যাকাশে কিংবা নীলচে হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব এবং তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
নবজাতক, বয়স্ক ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা নারী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, ক্যানসার বা কিডনি-লিভারের রোগী এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাঁদের সেপসিসের ঝুঁকি বেশি। তবে যে কোনও বয়সের মানুষেরই সেপসিস হতে পারে।
কীভাবে হয় চিকিৎসা?
সেপসিস একটি মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি। সন্দেহ হলেই দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু করা জরুরি। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক শিরায় অ্যান্টিবায়োটিক, তরল বা স্যালাইন এবং অক্সিজেন দিতে পারেন। প্রয়োজন হলে রক্তচাপ বাড়ানোর ওষুধ, ভেন্টিলেশন কিংবা নিবিড় পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হয়। পাশাপাশি সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করে তা নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিরোধে কী করবেন?
সেপসিস প্রতিরোধে সংক্রমণ এড়ানো এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, ক্ষত পরিষ্কার রাখা, প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া এবং ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়।
