দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে প্রথাগত উন্নয়নের গণ্ডি পেরিয়ে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। সম্প্রতি এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা খাতে ছোটখাটো সংস্কার বা সাধারণ ‘হাই জাম্প’ যথেষ্ট নয়; বরং আমাদের ‘মোর মোর জাম্প’ বা অভাবনীয় গতির উল্লম্ফন প্রয়োজন।
শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, কেবল অবকাঠামো নির্মাণ বা পাসের হার বাড়ানোই প্রকৃত উন্নয়ন নয়। প্রকৃত পরিবর্তন তখনই আসবে, যখন শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষার্থীরা কর্মমুখী ও সৃজনশীল শিক্ষায় দীক্ষিত হবে। তিনি মনে করেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই সময়ে আমাদের পাঠ্যক্রম এবং শিখন পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনা সময়ের দাবি। মুখস্থ বিদ্যার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে হাতে-কলমে শিক্ষা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শুধু সরকারের একার প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়। শিক্ষক, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে এই পরিবর্তনের অংশীদার হতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, আমরা যদি গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে চলি, তবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে। তাই প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষকরাই হলেন এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মূল কারিগর। তাদের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমেই শ্রেণিকক্ষে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।
