সংস্থা: চেরি—মিষ্টি, রসালো ও উজ্জ্বল এই ছোট ফলটি বহুদিন ধরেই ফলপ্রেমী ও রন্ধনশিল্পীদের কাছে প্রিয়। এটি কাঁচা খাওয়া যায়, আবার নানা রকম মিষ্টি, জ্যাম বা সিরাপে রূপ নিয়ে রান্নায় ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আপনি কি জানেন বিশ্বের অধিকাংশ চেরি কোথা থেকে আসে? উত্তরটি হলো তুরস্ক—একটি দেশ যা তার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের পাশাপাশি, এখন চেরি উৎপাদনের দিক থেকেও বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে।
এই প্রতিবেদনটিতে আমরা চেরির ইতিহাস, তুরস্ক কীভাবে চেরি উৎপাদনে শীর্ষস্থান দখল করেছে, এবং কীভাবে এই ফল বিশ্বজুড়ে মানুষের মন জয় করেছে, তা বিশ্লেষণ করবো।
চেরির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
চেরি ফলটি “Prunus” গণের অন্তর্গত এবং এটি পিচ, আলুবোখারা ও এপ্রিকটের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। এর উৎপত্তি প্রাগৈতিহাসিক যুগে, এমনকি প্রস্তর যুগেও মানুষ বুনো চেরি খেত বলে প্রমাণ রয়েছে। প্রাচীন গ্রিক, রোমান এবং পার্সিয়ান সভ্যতায় চেরি অত্যন্ত আদৃত ছিল। রোমান জেনারেল লুকুলাস খ্রিস্টপূর্ব ৭৪ সালে চেরিকে এশিয়া মাইনর (বর্তমান তুরস্ক) থেকে ইউরোপে নিয়ে যান। সেখান থেকেই এর ব্যাপক বিস্তার ঘটে।
চেরির জনপ্রিয়তার কারণ কী?
চেরির জনপ্রিয়তা শুধু এর স্বাদের জন্য নয়, এর পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্যও। চেরিতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (যেমন অ্যান্থোসায়ানিন ও কুয়েরসেটিন), প্রচুর ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও ফাইবার। এটি প্রাকৃতিক মেলাটোনিনের কারণে ঘুমের মান উন্নত করে এবং প্রদাহ কমাতেও সহায়ক। এসব উপাদান ও রন্ধনপ্রস্তুতিতে বহুমুখী ব্যবহার চেরিকে বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন ফল করে তুলেছে।
