চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার ইছাখালী ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৪৮ হাজার ৭৫০ কেজি অবৈধ ইউরিয়া সার বোঝাই চারটি ট্রাক ও একটি মাছ ধরার নৌযান জব্দ করেছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে। কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই ঝটিকা অভিযানে তারা জানতে পারেন যে, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সংগ্রহ করা বিপুল পরিমাণ এই সার চোরাই পথে জলপথে পাচার করে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সুকৌশলে ট্রাক থেকে মাছ ধরার নৌযানে খালাস করা হচ্ছিল। ঘটনাস্থল থেকে কোস্টগার্ডের আভিযানিক দল একটি ট্রাকের চালক মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং মালামাল লোড-আনলোডের কাজে সরাসরি নিয়োজিত থাকা দুই শ্রমিক মনির হোসেন ও মো. হাসনাইনকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হলেও, এই বিশাল অবৈধ চোরাচালান চক্রের মূল হোতারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে আটককৃত তিন ব্যক্তিকে মিরসরাই উপজেলায় নিয়ে আসা হলে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীরুল কাদের চৌধুরী, যিনি আইন অমান্য করে অবৈধভাবে সার পাচারের চেষ্টার অপরাধে তাদের উপযুক্ত অর্থদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায়ের সক্রিয় সহযোগিতা ও উপস্থিতিতে ওই অভিযানে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয়। উদ্ধারকৃত ও জব্দ করা চারটি ট্রাক বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসনের জিম্মায় সুরক্ষিত রাখা হয়েছে এবং সমুদ্রপথে সংঘটিত এই ধরনের অবৈধ চোরাচালান ও পাচার রোধে কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি ও তৎপরতা ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। এই বিষয়ে বিস্তারিত বলতে গিয়ে মিরসরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীরুল কাদের চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, জব্দ করা ট্রাকগুলো প্রশাসনিক জিম্মায় রাখার পাশাপাশি সাগরপথে ব্যবহৃত মাছ ধরার নৌযানটি কোস্টগার্ডের জিম্মায় সঁপে দেওয়া হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটির পেছনে কারা জড়িত রয়েছে তা উদ্ঘাটন করতে খুব শীঘ্রই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অন্যদিকে, মিরসরাই কোস্টগার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে, প্রাথমিক তদন্তে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে এসব সার অত্যন্ত গোপনে সাগরপথ ব্যবহার করে পাচারের উদ্দেশ্যে মিয়ানমারে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে যেকোনো ধরনের অবৈধ চোরাচালান ও বেআইনি কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করতে কোস্টগার্ড সবসময় অত্যন্ত সজাগ ও প্রস্তুত রয়েছে।
