ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রায় এক বছর আগে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞপ্তি এবং দীর্ঘ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ফারুক আহমেদকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে। তাঁর পরিবর্তে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর রহমানকে ডিএমটিসিএলের এমডি হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আকস্মিক এই পরিবর্তন দেশের একমাত্র মেট্রোরেল সেবার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেট্রোরেলের মতো একটি উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর এবং বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পেশাদার প্রকৌশলী সরিয়ে আবারও একজন আমলা নিয়োগ দেওয়া নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার যখন মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল, তখন ৭৭ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে ফারুক আহমেদকে নির্বাচিত করা হয়েছিল। তাঁর মেয়াদে মেট্রোরেলের প্রকল্প ব্যয় সাশ্রয় এবং দ্রুত সংস্কার কাজে দৃশ্যমান সাফল্য এসেছিল। বিশেষ করে মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশন দুটি মেরামতে আগের সরকারের প্রাক্কলিত ৩৫০ কোটি টাকার পরিবর্তে মাত্র ২ কোটি টাকায় সচল করা ছিল একটি বড় উদাহরণ।
নভেম্বরের মাঝমাঝি থেকে মেট্রোরেলের ট্রিপ সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ট্রেনের মধ্যবর্তী বিরতি কমিয়ে আনার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, নেতৃত্বের এই পরিবর্তনে তা কতটা মসৃণ হবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ডিএমটিসিএলের শুরু থেকেই অভিযোগ ছিল যে, একে একটি প্রকৌশলনির্ভর সংস্থার পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়েছে। নতুন এই নিয়োগের ফলে সংস্থাটি আবারও সেই পুরনো বৃত্তে ফিরে যাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। সাধারণ যাত্রী ও খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মেট্রোরেলের নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক দক্ষতার চেয়ে কারিগরি অভিজ্ঞতাই বেশি জরুরি।
