ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে কার্যালয়ে আটকে রেখে হেনস্থার অভিযোগে তার কার্যালয় অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। ঐ প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এ অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিএনপি সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে সেখানে উদ্ধারে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলায় হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসানসহ অন্তত ছয়জন আহত হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট হলের প্রাধ্যক্ষের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রোবোটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত মো. ইব্রাহীম। এর জেরে রোববার তাকে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে।
এর প্রতিবাদে এবং প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল সন্ধ্যা ৭টার পর হল কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এতে ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের নির্বাচিত নেতাকর্মী, ডাকসুর নেতাকর্মী, ছাত্রশিবির নেতাকর্মী এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারাও অংশ নেন। হল সংসদ ও ডাকসুর পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানায়। সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানান, ইচ্ছে করেই প্রাধ্যক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে বের করে আনতে রাতে সেখানে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাং এবং কয়েকজন সহকারী প্রক্টর। সিসিটিভি প্রকাশ না করা এবং সমাধানের চেষ্টা না করার অভিযোগে একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাদেরও কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পরে দুই প্রো-ভিসি সেখান থেকে বের হয়ে যান। এ সময় প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের গেটে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাংয়ের সঙ্গে হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসানসহ কয়েক শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নাঈমসহ সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ভিপি ও জিএসসহ অন্তত ছয়জন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল প্রাংও ধাক্কা খেয়ে একটি পিলারের সঙ্গে পড়ে যান। পরে ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী তাকে ঘিরে সেখান থেকে বের করে নিয়ে যান। হামলার পর হল সংসদের জিএস ইমামুল হাসানকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় ভিপি আবু নাঈমের গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। পরে আহতদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল প্রাধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে যান।
