September 28, 2026
image (19)

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সরকারের দ্বিতীয় পরামর্শ সভায় আইনটিতে আরও সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে। সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা আইনটির সম্ভাব্য অপপ্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার পেশাগত কার্যক্রম সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করার দাবি জানান। সভা শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সংশোধনী ছাড়া আইনটি পাস হলে বাংলাদেশ বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে। তাঁর এই মন্তব্য প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন ধারার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গণমাধ্যম মহলের উদ্বেগকে সামনে নিয়ে এসেছে। আলোচনায় অংশ নেওয়া গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা মনে করেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের কাজের ক্ষেত্রেও সুস্পষ্ট সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আইনের কিছু বিধান যথাযথ সংশোধন ছাড়া কার্যকর হলে তা সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশ এবং সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ তৈরি করতে পারে। গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখার জন্য একটি পৃথক গণমাধ্যম কমিশন গঠন এবং কমিশনের মাধ্যমে এ ধরনের বিষয় নিষ্পত্তির প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে। সভায় দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের মহাসচিব ও একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বক্তব্য দেন। তাঁরা খসড়া আইন পর্যালোচনার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। এর আগে সভায় সরকারের অবস্থান সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে সরকারের একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরামর্শ সভার মূল লক্ষ্য ছিল প্রস্তাবিত আইনের খসড়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়গুলো চিহ্নিত করা। গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগের মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি। তাঁদের মতে, আইন প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের উদ্বেগ ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হলে ভবিষ্যতে আইনের অপপ্রয়োগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে পরামর্শ সভায় বিভিন্ন মতামত শোনা হয়েছে এবং খসড়া আইন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সভায় উত্থাপিত প্রস্তাব ও উদ্বেগগুলো আইনটির পরবর্তী পর্যালোচনায় কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংশ্লিষ্টদের আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি কাঠামো তৈরির প্রত্যাশা রয়েছে, যা একদিকে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং অন্যদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীন ও দায়িত্বশীল কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে অংশীজনেরা মনে করেন, আইনের ভাষা স্পষ্ট, নির্দিষ্ট ও অপব্যবহারের সুযোগমুক্ত হওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশের অধিকারও রক্ষা করতে হবে। এই ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি আইনটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এবং বাস্তব প্রয়োগে অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এ বিষয়ে আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ে অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *