রাজধানীর বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) ৪৪তম বার্ষিক সাধারণ সভায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন। তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থার যে আমূল পরিবর্তন ঘটছে, তাতে প্রচলিত নোট ও গাইড বইয়ের প্রয়োজনীয়তা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তবে এর বিকল্প হিসেবে বাজারে উন্নত ও মানসম্মত সহায়ক বইয়ের চাহিদা বজায় থাকবে।
শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে ট্যাবসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ফলে চিরাচরিত গাইড বইয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের নির্ভরতা কমছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, নোট-গাইড বন্ধ হলেও প্রকাশক বা বিক্রেতারা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। বরং তাঁরা যদি আন্তর্জাতিক মানের বই এবং যুগোপযোগী সহায়ক সামগ্রী তৈরি করেন, তবে বিশ্ববাজারেও বাংলাদেশের সস্তা মুদ্রণ শিল্পের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বড় সাফল্য পাওয়া সম্ভব।
পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে কিছু অসাধু চক্র অনৈতিকভাবে গাইড বইয়ের ব্যবসা করেছে, যার পেছনে তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণের অভাব ছিল। তবে বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম অমর একুশে বইমেলার আয়োজনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাপুসকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দেন। অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন প্রকাশনা শিল্পের কেন্দ্রস্থল বাংলাবাজারের ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার এবং তাঁদের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বাপুস সভাপতি মো. রেজাউল করিম প্রকাশনা ও মুদ্রণশিল্পকে পূর্ণাঙ্গ শিল্পের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানান। তিনি ১ জানুয়ারির বই উৎসব সফল করতে কাগজের সিন্ডিকেট ভেঙে বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার এবং ক্ষুদ্র প্রকাশকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার অনুরোধ জানান। সভায় বক্তারা নীলক্ষেত ও বাংলাবাজারের বিক্রেতাদের দুরবস্থা দূর করে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানান। পরিশেষে, শিক্ষাবিদ মো. আবদুল আজিজ ডিজিটাল যুগেও মুদ্রিত বইয়ের গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, গভীর চিন্তা ও মনোযোগ বিকাশে মুদ্রিত বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। একইসাথে ১৯৪০ সালের পুরনো আইন আধুনিকায়ন ও বইয়ের ওপর থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবিও উত্থাপন করা হয়।
