September 29, 2026
image (34)

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সময় ও তারিখ নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিকভাবে অনুকূল পর্যায়ে পৌঁছানোর পরই সফরের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এগোবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো অতিক্রম করার বিষয়ে ঢাকা আশাবাদী। নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে এটি ছিল হুমায়ুন কবিরের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকটি আন্তরিক, ভালো এবং ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নভেম্বরে ভারত সফর করতে পারেন—এমন জল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, গুঞ্জনকে তিনি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে দেখেন না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাস্তবতা হলো দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফলের সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন। একই সঙ্গে ঢাকার পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে সফরটি তাড়াহুড়ো করে আয়োজনের পরিবর্তে একটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি হিসেবে হওয়া উচিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আগস্টে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতীয় কূটনৈতিক প্রতিনিধির পক্ষ থেকেও দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও মঙ্গলবারের সাক্ষাতের পর বলেন, সফর নিয়ে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। সময় হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে সফরের জন্য পারস্পরিকভাবে উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষার বিষয়টি উঠে আসে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকার দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। এর আগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফরকে বহুপক্ষীয় কোনো সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত না করে পৃথক দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে আয়োজনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ও ভারত সফরের কাঠামো নিয়ে আলাদা অবস্থান স্পষ্ট করেছিল। ঢাকা জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে আলাদা আমন্ত্রণ না জানালে ওই সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণের প্রশ্নটি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে দুই দেশের আলোচনায় সম্পর্ক পুনর্গঠন, পারস্পরিক আস্থা এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে অগ্রগতির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সম্পর্ককে আরও কার্যকর পর্যায়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী। ফলে তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি, তবে সফরের সময়সূচি নির্ধারণের আগে দুই দেশের সম্পর্কের পরিবেশ আরও অনুকূল হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সফরের আগে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। এসব আলোচনার অগ্রগতি এবং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত সফরের তারিখ নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলো থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এবং আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *