October 3, 2026
WhatsApp Image 2026-10-03 at 12.03.15 PM

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণকাজ এগিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য সাড়ে ৫৮ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থায়নসহ মোট ১৯টি ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত কাজগুলো বাস্তবায়নাধীন ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের লাইন-১ এবং লাইন-৫ (উত্তর রুট)-এর আওতাভুক্ত। প্রকল্প দুটির মেয়াদ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা—জাইকা যৌথভাবে প্রকল্প দুটির অর্থায়ন করছে। বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল লাইন-১-এর ডিপো অবকাঠামো ও ভবন নির্মাণের কাজ পেয়েছে ‘সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল জয়েন্ট ভেঞ্চার’। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ টাকা।

লাইন-১-এর মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণের জন্য ‘নিশিমাতসু-টিপিএল-তোদা জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
এ ছাড়া রামপুরা থেকে নতুন বাজার অংশের নির্মাণকাজ পেয়েছে ‘তোকিউ-এমআইএল জয়েন্ট ভেঞ্চার’। এ অংশের মূল চুক্তিমূল্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। মেইন লাইনের আরেকটি অংশের নির্মাণকাজ ২ হাজার ৫৩৪ কোটি ৯ লাখ টাকায় পেয়েছে ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’।

রেললাইন স্থাপন ও বৈদ্যুতিক সুবিধা নির্মাণের কাজ ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় দেওয়া হয়েছে ‘এলঅ্যান্ডটি-সুমিটোমো কনসোর্টিয়ামকে’। অন্যদিকে ট্রেন পরিচালনার সংকেত ব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপনের কাজ পেয়েছে ‘লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেড’। এ কাজের চুক্তিমূল্য ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

মেট্রোরেল লাইন-৫-এর উত্তর রুটের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা অংশ নির্মাণের কাজ ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ টাকায় পেয়েছে ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’।

একই রুটের ডিপো এলাকার নির্মাণকাজের জন্য ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ টাকায় ‘সিপিসি-হানিল জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
সরকারের এই অনুমোদনের ফলে লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ আরও এগিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ আরও প্রসারিত হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *