August 11, 2026
WhatsApp Image 2026-08-11 at 1.42.23 PM (1)

বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী মুজিবনগর -এর জন্য খ্যাত জেলা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হলো ৯৬টি মাইন। যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয় ও পলায়নের প্রত্যক্ষ দলিল।

শনিবার গাংনীর বেতবাড়িয়া গ্রামের প্রবাসী নুরুজ্জামান কালুর সাত শতাংশ জমিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য শ্রমিকেরা মাটি কাটছিলেন। এ সময় মাটির নিচ থেকে ছয়টি ধাতব বস্তু বেরিয়ে আসে। সেগুলোর গায়ে ‘মাইন ১৯৬৭’সহ বিভিন্ন লেখা ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে দেয় এবং সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে যশোর সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পুরো এলাকা পরীক্ষা করে। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে খনন চালিয়ে একে একে মাইনগুলো উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন এবং ৭৯টি অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন রয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল উদ্ধার করা মাইনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। পরে ঝুঁকি এড়াতে সেগুলো নিরাপদ স্থানে নিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করা হয়। একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।

১৯৭১ সালের ১১ ও ১২ নভেম্বর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বেংগাড়ি মাঠে বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তানি বাহিনী। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত ওয়ালিউল হোসেনসহ কয়েকজন যোদ্ধা শহীদ হন। আকস্মিক হামলায় টিকতে না পেরে হানাদার বাহিনী বেতবাড়িয়া গ্রাম হয়ে কুষ্টিয়া সদরের দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় এসব মাইন পুঁতে রেখে যায়।

সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা জানান, ভোরে হানাদার ক্যাম্পে তাদের আকস্মিক আক্রমণে পাকিস্তান বাহিনী গাড়ি ও ট্যাংক ফেলে কুষ্টিয়ার দিকে পালাতে বাধ্য হয়। বেতবাড়িয়া গ্রামের যে সড়ক দিয়ে পলায়নরত সেনারা অস্ত্র নিয়ে গিয়েছিল, সেই পথেই মাইনগুলো ফেলা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের পলায়নের পথ রুদ্ধ করতে মুক্তিযোদ্ধারা খলিশাকুণ্ডি এলাকার একটি সেতু বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *