February 13, 2026
Capture


এজেন্সি: আজকের যুগে প্রযুক্তি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে খুব সহজে। পড়াশোনা, বিনোদন বা যোগাযোগ—সবকিছুর ক্ষেত্রেই মোবাইল যেন এখন সবার নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। তারা খুব অল্প বয়সেই মোবাইল আসক্ত হয়ে পড়ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনেক শিশুকে দেখা যায় মোবাইল হাতে নিয়ে বসে থাকতে। কার্টুন দেখা, গেম খেলা বা ইউটিউব স্ক্রল করা তাদের প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই অভ্যাসই এখন চোখের জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।চোখ মানুষের দেহের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঙ্গগুলোর একটি। শিশুদের চোখ তো আরও কোমল এবং অরক্ষিত। মোবাইলের স্ক্রিন থেকে যে নীল আলো নির্গত হয়, তা দীর্ঘ সময় দেখলে চোখের ক্ষতি হয়। এই আলো শিশুদের চোখে চাপ সৃষ্টি করে। অনেক সময় দেখা যায় মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তাদের চোখে জ্বালা করে, পানি ঝরে বা মাথা ব্যথা হয়। কিন্তু শিশুরা এত ছোট যে তারা এই সমস্যাগুলো ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে না। ফলে বাবা-মা বিষয়টি অনেক সময় খেয়ালও করেন না।

মোবাইলের স্ক্রিনে ক্রমাগত তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। চোখকে এক জায়গায় স্থির রেখে বারবার মনোযোগ দিতে হয়, যা চোখকে অল্প বয়সেই ক্লান্ত করে তোলে। আগে যেখানে শিশুদের চোখের সমস্যা তুলনামূলক কম দেখা যেত, এখন সেখানে চশমা ব্যবহারকারী শিশুর সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। বিশেষ করে ছয় থেকে বারো বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া বা দূর-নিকট দেখায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এটি মূলত মোবাইল আসক্তির ফল।

মোবাইল শিশুদের চোখের জন্য কেবল শারীরিক সমস্যাই তৈরি করছে না, মানসিক চাপও তৈরি করছে। দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার করার কারণে তারা বাইরের পরিবেশে কম সময় কাটাচ্ছে। খেলাধুলার মাঠে যাওয়া বা প্রাকৃতিক আলোয় সময় কাটানো কমে যাচ্ছে। অথচ সূর্যের আলো চোখের জন্য খুব উপকারী। প্রাকৃতিক আলো চোখকে সুস্থ রাখে এবং দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু ঘরে বসে অন্ধকারে বা কম আলোতে মোবাইল ব্যবহারের ফলে চোখের ক্ষতি আরও দ্রুত হয়।

এছাড়া শিশুদের মধ্যে চোখ শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহারের সময় স্বাভাবিকভাবে চোখের পাতা ফেলার সংখ্যা কমে যায়। ফলে চোখের আর্দ্রতা নষ্ট হয় এবং চোখ শুষ্ক হয়ে যায়। এর ফলে অল্প বয়সেই ‘ড্রাই আই সিনড্রোম’-এর মতো সমস্যা তৈরি হচ্ছে। আগে যা মূলত বয়স্কদের মধ্যে দেখা যেত, এখন তা শিশুদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *