আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের ঈদের আনন্দ হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং উৎসবমুখর। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা পর্যালোচনার পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির নানা অস্থিরতা সত্ত্বেও সরকারের সঠিক মুদ্রানীতি এবং বাজার মনিটরিংয়ের ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে একটি স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। ঈদকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স প্রবাহে জোয়ার আসায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যেমন শক্তিশালী হয়েছে, তেমনি তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের হাতে নগদ অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলেছে। তিনি মনে করেন, এবারের ঈদে মানুষের কেনাকাটা এবং উৎসব পালনের ধরন প্রমাণ করে যে দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাজার দর নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার কঠোর তদারকির মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রমজান মাস জুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটায় এবং উৎসবের আগে বিশেষ প্রণোদনা ও বোনাস সঠিক সময়ে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোয় এবারের ঈদ উদযাপন হবে অনেক বেশি আনন্দদায়ক। তিনি আরও জানান যে, পরিবহন খাতের উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ফলে মানুষ এবার নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারছে, যা ঈদের আনন্দে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সড়ক ও জনপথের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রাকে আগের চেয়ে সহজ ও আরামদায়ক করেছে, যার প্রভাব পড়বে মানুষের হাসি-খুশি উদযাপনে।
পরিশেষে অর্থমন্ত্রী দেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান যাতে তারা অতি মুনাফার লোভে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করেন এবং সাধারণ মানুষের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যখন টেকসই হয়, তখন তার প্রতিফলন জনজীবনের উৎসবে ফুটে ওঠে। এবারের ঈদের আনন্দ কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হবে। অর্থমন্ত্রীর মতে, সাধারণ মানুষের স্বস্তি এবং সন্তুষ্টিই সরকারের সাফল্যের মূল মাপকাঠি এবং সেই লক্ষ্যেই এবারের উৎসবকে আনন্দময় করতে সকল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি দেশবাসীকে শান্তি ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
