ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে আরও ২৪টি শিশু ভর্তি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে হাম আক্রান্ত বা সংশ্লিষ্ট উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জেলার সীমান্তবর্তী এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো থেকে আসা শিশুদের মধ্যেই এই প্রাদুর্ভাব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালের সংক্রামক ব্যাধি ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যার তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেশি হওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
চিকিৎসকদের মতে, ভর্তি হওয়া শিশুদের শরীরে উচ্চ তাপমাত্রা, সর্দি, কাশি এবং ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশের মতো হামের চিরাচরিত লক্ষণগুলো বিদ্যমান। আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) আওতায় হামের টিকা নেয়নি অথবা ডোজ সম্পূর্ণ করেনি বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। পুষ্টিহীনতা এবং সচেতনতার অভাবে গ্রামাঞ্চলে এই রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ইউনিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে অন্যান্য রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ যা বাতাস ও সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে এটি নিউমোনিয়া, কান পাকা বা চোখের সমস্যার মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে এবং জরুরি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সেবন এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা হলে হামের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
