May 1, 2026
image (67)

অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে চরম সংকটের মুখে পড়েছে নেত্রকোনার কৃষি। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় রেকর্ড ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা এই মৌসুমের সর্বোচ্চ। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে কংস নদের পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা নদীতীরবর্তী ও হাওর অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে।

সরেজমিনে হাওর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সারা বছরের কষ্টের ফসল—পাকা বোরো ধান চোখের সামনেই তলিয়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন কৃষকরা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও মঙ্গলবার রাত থেকে পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। এতে কংস, ধনু, উব্দাখালী, সোমেশ্বরী ও মগরাসহ জেলার প্রধান সব নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, কংস নদের জারিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ৭ দশমিক ১৭ মিটারের বিপরীতে পানি ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ধনু নদের খালিয়াজুরি পয়েন্টে পানি কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে, যা বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার অধিকাংশ নিচু জমি ও বোরো ফসলের খেত তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো বড় ফসল রক্ষা বাঁধ ভাঙার খবর পাওয়া যায়নি, তবে বেশ কিছু বাঁধের খুব কাছ পর্যন্ত পানি চলে আসায় স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন থেকে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হলেও, অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও শ্রমিক সংকটের কারণে অনেকে ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না। বোরো ধান কাটার এই ভরা মৌসুমে প্রকৃতির এমন রুদ্রমূর্তিতে দিশেহারা হাওরের মানুষ।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বর্তমানে নদ-নদীর পানি যে হারে বাড়ছে, তাতে নদীতীরবর্তী নিচু এলাকার আরও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন কেবলই সময়ের অপেক্ষা—প্রকৃতি কবে শান্ত হবে এবং কৃষকরা তাদের সোনালি ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে নেত্রকোনার হাওরবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *