সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে তীব্র শ্রমিকসংকট মোকাবিলা এবং দ্রুত ধান ঘরে তোলার লক্ষ্যে জেলার সব বালুমহাল আরও পাঁচ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) এস এম ইয়াসীর আরাফাত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নতুন নির্দেশানুযায়ী, আগামী ৫ মে পর্যন্ত জেলার সব বালুমহালে বালু উত্তোলন ও পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
এর আগে, ধান কাটার শ্রমিকের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য বালুমহালগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে হাওরে এখনও অর্ধেকের বেশি ধান কাটা বাকি থাকায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও পাঁচ দিন বাড়ানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বোরো ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি সময়মতো রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
সুনামগঞ্জে বর্তমানে আবহাওয়া কৃষকদের প্রতিকূলে রয়েছে। অতিবৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন হাওরের নিচু জমি তলিয়ে যাওয়ায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাওরে জলবদ্ধতা থাকায় কম্বাইন্ড হারভেস্টর বা ধান কাটার যন্ত্র ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছে, যার ফলে হাতে ধান কাটা শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। তবে বাজারে অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও পর্যাপ্ত শ্রমিক মিলছে না। বালুমহালগুলো বন্ধ থাকলে সেখানকার শ্রমিকরা ধান কাটার কাজে নিয়োজিত হতে পারবেন বলে আশা করছে প্রশাসন।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫১ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে পাহাড়ি ঢলে ইতিমধ্যে ১৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমি তলিয়ে গেছে। যদিও কৃষি বিভাগের এই পরিসংখ্যানের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন স্থানীয় হাওর আন্দোলনের কর্মীরা। তাঁদের দাবি, মাঠপর্যায়ে ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি এবং প্রায় ৫০ শতাংশ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পথে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমলেও সুরমা নদীর পানি ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার রাতে হওয়া রেকর্ড ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত কৃষকদের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে। তবে গত দুই দিন ধরে বৃষ্টি কম হওয়ায় এবং রোদ ওঠায় কৃষকরা কিছুটা স্বস্তিতে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু করতে পেরেছেন। এই সুযোগে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
