April 30, 2026
image (20)

টানা বৃষ্টির প্রভাবে ধান নষ্ট হওয়ার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, রোদ ওঠায় তা অনেকটাই কেটে গেছে। করিমগঞ্জের খয়রত হাওরে কাজ করতে আসা নেত্রকোনার শ্রমিকরা জানান, গত চার দিন বজ্রপাত আর বৃষ্টির ভয়ে তারা মাঠে নামতে পারেননি, যা তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একইভাবে কৃষক রইছ উদ্দিনের মতো অনেকেই দুশ্চিন্তায় ছিলেন খলায় স্তূপ করে রাখা কয়েকশ মণ ভেজা ধান নিয়ে। রোদ ওঠায় এখন সেই ধান শুকানোর সুযোগ পেয়ে তারা স্রষ্টার কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন।

রোদ ওঠায় শুধু মাঠের চিত্রই বদলায়নি, হাওরের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির গতিও অনেকটা কমেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী:

  • ধনু-বৌলাই নদ: গতদিনের তুলনায় পানি বৃদ্ধির হার অনেক কমে এসেছে।
  • মগড়া ও মেঘনা নদী: এই দুই নদীর পানি গতকালের চেয়ে কিছুটা কমেছে, যা কৃষকদের জন্য আশাব্যঞ্জক।
  • কালনী নদী: অষ্টগ্রামের এই নদীতে পানি বৃদ্ধির হার এখন নেই বললেই চলে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান জানিয়েছেন, গত বুধবার বিকেল পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টিতে প্রায় ৪ হাজার ৭৫৪ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে আজ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পানি না বাড়লে নিমজ্জিত জমির কিছু অংশ ভেসে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পাউবো এবং কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন রোদ থাকতেই দ্রুত সময়ের মধ্যে পাকা ধান কেটে ঘরে তোলা হয়। প্রকৃতির এই বৈরিতা কাটিয়ে সোনার ফসল ঘরে তুলতে কিশোরগঞ্জের প্রতিটি হাওরে এখন চলছে বিরামহীন কর্মযজ্ঞ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *