বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান থেকে আবারও স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, চলতি বছরের সদ্য সমাপ্ত মে মাসে দেশজুড়ে মোট ৫৯টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের এই ভয়াবহ চিত্রকে অত্যন্ত উদ্বেগের ও বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-কমিটির সংরক্ষিত ১৩টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই তথ্য সংকলন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মে মাসে ধর্ষণের শিকার এই শিশুদের মধ্যে ৯ জনকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ৪ জনকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৭টি শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
মহিলা পরিষদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবল ধর্ষণই নয়, মে মাসে সামগ্রিকভাবে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের চিত্রটি আরও ভয়াবহ। গত মাসে দেশে মোট ৩২২ জন নারী ও কন্যাশিশু নানাবিধ সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১০৮ জন কন্যাশিশু এবং ২১৪ জন নারী রয়েছেন। নারী নির্যাতনের ঘটনায় ৪১টি হত্যাকাণ্ড এবং ২৬টি রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ৪ জন নারী ও কন্যাশিশুকে এসিড দগ্ধের শিকার হতে হয়েছে এবং ৭টি যৌতুকের ঘটনার মধ্যে ৪ জনকে যৌতুকের কারণে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। দেশের এই চরম সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এই বর্বর অপরাধগুলোর সঙ্গে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
