অর্থমন্ত্রী আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের শেয়ার বাজার শক্তি ফিরে পাবে এবং স্থিতিশীল হবে, যা সাম্প্রতিক অস্থিরতার মাঝে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন যে, কাঠামোগত উন্নয়ন, নীতিগত সহায়তা এবং চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করবে এবং বাজারের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রীর মতে, শেয়ার বাজারের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মূলত চক্রাকার এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ, সুদের হারের ওঠানামা ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ দেশীয় ও বৈশ্বিক উভয় কারণ দ্বারা প্রভাবিত। তবে, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রধান খাতগুলোতে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি এবং অব্যাহত বিনিয়োগ প্রবাহের কারণে অর্থনীতির মূল ভিত্তি শক্তিশালী রয়েছে।
তিনি আরও বলেন যে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে স্বচ্ছতা বাড়াতে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক প্রচেষ্টা জোরদার করা হচ্ছে। তিনি যোগ করেন, এই পদক্ষেপগুলোর লক্ষ্য হলো প্রাতিষ্ঠানিক ও খুচরা উভয় বিনিয়োগকারীর জন্য পুঁজি বাজারকে আরও স্থিতিশীল ও আকর্ষণীয় করে তোলা।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, স্বল্পমেয়াদী ওঠানামা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হলেও, দীর্ঘমেয়াদী পুনরুদ্ধার টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্পোরেট আয়ের কর্মক্ষমতা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর নির্ভর করবে। বিদেশি পুঁজি প্রবাহের উপর নির্ভরতা কমাতে শেয়ার বাজারে দেশীয় অংশগ্রহণ বাড়ানোর গুরুত্বের উপরও তারা জোর দেন।
সাম্প্রতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে সতর্ক থাকা বিনিয়োগকারীদের অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্য আশ্বস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ধারাবাহিক নীতিগত নির্দেশনা এবং বিনিয়োগকারীদের উন্নত মনোভাব আগামী বছরগুলোতে ধীরে ধীরে বাজার পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সরকার যেহেতু আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, তাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শেয়ার বাজার আরও স্থিতিশীল এবং প্রবৃদ্ধিমুখী একটি পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাবে।
