বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল আকারের জাতীয় বাজেট কণ্ঠভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) অনুষ্ঠিত অধিবেশনে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমে এই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়, যা আগামীকাল ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। দেশের ইতিহাসে ৫৫তম এবং চলতি বছরের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর এটিই বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। নতুন এই বাজেটে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবারের বাজেটের মোট আকার বিগত অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি, যা প্রায় ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি বিশেষ “৩আর (৩জ) কৌশল” ঘোষণা করেছেন। এই বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। অন্যদিকে, সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমপরিমাণ। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা দীর্ঘ বাজেট আলোচনা শেষে করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করা এবং ফ্ল্যাট-জমি নিবন্ধনের বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহারসহ অর্থবিলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনে চূড়ান্তভাবে এই বাজেট পাস করা হয়।
