রাজধানী ঢাকার মিরপুরের কালশী এলাকায় তৈরি পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের এক তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে, যা ওই এলাকার সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে চরমভাবে বিঘ্নিত করেছে। মঙ্গলবার সকালে কালশী ও মিরপুর-১২ নম্বর সংলগ্ন প্রধান সড়কে এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী এক পুলিশ কর্মকর্তাকে চারপাশে ঘেরাও করে ফেলে এবং তাকে বেধড়ক মারধর করে। শুধু তাই নয়, উত্তেজিত জনতা ওই কর্মকর্তার সঙ্গে থাকা সরকারি অস্ত্রটি কেড়ে নিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, সকালে বিক্ষোভকারী পোশাক শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের একটি দল বিক্ষোভকারীদের পিছু ধাওয়া করে মিরপুর-১২ নম্বরের ভেতরের একটি সড়কে ঢুকে পড়ে। সেখানে পৌঁছানোর পর চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং হঠাৎ করেই পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের দ্বারা চারদিক থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা চতুর্দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে একাধারে ইটপাটকেল ও ইট ছুঁড়তে শুরু করে। পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটলে সুরক্ষার উদ্দেশ্যে অধিকাংশ পুলিশ সদস্য পেছনে সরে যান এবং নিকটস্থ একটি নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত একজন পুলিশ কর্মকর্তা অন্য সহকর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং বিক্ষোভকারীদের একেবারে কাছাকাছি আটকা পড়েন। আশেপাশে অন্য কোনো পুলিশ সদস্য উপস্থিত না থাকার সুযোগে একদল বিক্ষোভকারী ওই কর্মকর্তাকে ঘিরে ধরে লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল দিয়ে আঘাত করতে থাকে। নিকটস্থ একটি ভবনের ব্যালকনি থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী প্রত্যক্ষদর্শী পুরো আক্রমণের ঘটনাটি নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও রেকর্ড করেন। ওই প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদমাধ্যমকে জানান, আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের পিছু ধাওয়া করলেও হঠাৎ বিক্ষোভকারীরা সংগঠিত হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করায় পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়। সেই মুহূর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা একদম একা পড়ে যান এবং উত্তেজিত জনতা তাকে ঘেরাও করে মারাত্মকভাবে মারধর করে। ঘটনার খবর পেয়ে পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র মিরপুর ও কালশী এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ, উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার প্রধান প্রধান সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
