সাভারের আশুলিয়ায় সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করার ফলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনার মধ্য দিয়ে গড়ায়। আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের জামগড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে কাজ বন্ধ করে শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে এলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া ইটপাটকেলে পুলিশের একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায় এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এলাকার ১,৮৬৩টি কারখানার মধ্যে ৭০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, আশুলিয়ার দোসাইদ এলাকায় ‘ফেব্রিকা নিট কম্পোজিট’ কারখানার প্রধান ফটক ভেঙে প্রায় ৫০০ জনের একটি বিক্ষোভকারী দল প্রবেশ করলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংলগ্ন অন্যান্য কারখানাতেও উৎপাদন বন্ধ করে দ্রুত ছুটি দেওয়া হয়, যার পরে কিছু অনিচ্ছুক শ্রমিককেও ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলনে নামাতে বাধ্য করার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আশুলিয়া ও সাভারের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জোরপুল এলাকায় সাভার ব্যাটালিয়নের পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয় এবং পর্যাপ্ত বিজিবি ও পুলিশ টহল জোরদার করা হয়। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা জেলার এসপি শামীমা পারভীন ডিইপিজেড এলাকা পরিদর্শন করে জানান, শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী একটি চক্র এই নৈরাজ্য চালাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে সাভার ও আশুলিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫ থেকে ৩০ জন বহিরাগতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যাদের কেউই পোশাক শ্রমিক নন। অন্যদিকে টানা কয়েকদিনের বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের পর গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের অবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে, যেখানে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন ছিল এবং কোনো ধরনের নতুন বিশৃঙ্খলার খবর মেলেনি। গাজীপুরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জানমালের নিরাপত্তা বিধানে নারায়ণগঞ্জ ও অন্যান্য স্থান থেকে আনা মোট ১০ প্লাটুন আনসার ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে, যারা তথ্য সংগ্রহ ও টহলের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদের নাশকতা প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ নিশ্চিত করেন যে সরকার নির্ধারিত মজুরি বোর্ডের কাজ চলমান রয়েছে এবং যেকোনো প্রকার সহিংসতা ও সরকারি-বেসরকারি সম্পদ ক্ষয়ক্ষতি রুখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহ সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত রয়েছে।
