ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম ও ত্রিপুরার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে কথিত নথিপত্রহীন বা অবৈধ বাংলাদেশি সন্দেহে একদল মানুষকে বাংলাদেশে পুশব্যাক বা ঠেলে পাঠানোর সাম্প্রতিক জোরপূর্বক তৎপরতা পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়ের মনে গভীর উদ্বেগ ও চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের সুযোগ না দিয়েই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সীমান্তরক্ষী দল অনেককে রাতারাতি আটক করে সীমান্তে নিয়ে যাচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে, এই আকস্মিক ও কঠোর ধরপাকড় অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বাংলাভাষী মুসলিমদের, যা সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে তীব্র সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক অস্থিরতা তৈরি করেছে। বহু পরিবার এখন নিজেদের বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও ঘরছাড়া হওয়ার বা ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকদের মতে, আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) এবং সাম্প্রতিক নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকরের রাজনৈতিক আবহের পর এই পুশব্যাকের ঘটনাগুলো রাজ্যের সংখ্যালঘু জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার বোধ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ধরপাকড় অভিযানের আইনি ভিত্তি এবং মানবিক দিক নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, রাজ্যের স্থায়ী ও বৈধ কোনো নাগরিককে অন্যায়ভাবে হেনস্তা হতে দেওয়া হবে না। তবে সীমান্ত এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই অনমনীয় ও আকস্মিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলের সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
