ঢাকা টেস্টের ভাগ্য নির্ধারণী শেষ দিনে পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। রণকৌশল অনুযায়ী ৭৫-৭৬ ওভারের মধ্যে ২৬০ রানের আশেপাশে একটি লক্ষ্য দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল টাইগারদের, আর মাঠের লড়াইয়ে ঠিক সেটিই প্রতিফলিত হয়েছে। হাতে থাকা ৭৬ ওভারে এই রান তোলা পাকিস্তানের জন্য মোটেও সহজ হবে না। কন্ডিশন এবং সময়ের চাপ বিবেচনায় বাংলাদেশের বোলাররা যদি শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে পারেন, তবে এই টেস্টে জয় পাওয়া স্বাগতিকদের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।
দিনের শুরুটা অবশ্য বেশ আক্রমণাত্মক ছিল। মুশফিকুর রহিম প্রথম বলেই হাসান আলীকে বাউন্ডারি মেরে নিজের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে দেন। তবে আগ্রাসী হতে গিয়ে দ্রুতই বিদায় নিতে হয় তাকে। হাসান আলীর করা পরের ওভারেই শান মাসুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২২ রানে ফেরেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। দ্রুত রান তোলার তাড়া ছিল লিটন দাসের ব্যাটেও। শাহিন শাহ আফ্রিদির একটি বাউন্সারে পুল শট খেলেছিলেন তিনি, যা গ্যালারিতে আছড়ে পড়বে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু সীমানার একদম কাছে ধরা পড়ে ১১ রানেই থামতে হয় তাকে।
সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হয়ে থাকবে নাজমুল হোসেন শান্তর বিদায়। সেঞ্চুরির সুবাস পেতে থাকা শান্ত ব্যক্তিগত ৮৭ রানে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। শত রান পূর্ণ করতে পারলে রিকি পন্টিং, ডেভিড ওয়ার্নার ও সুনীল গাভাস্কারের মতো কিংবদন্তিদের পাশে বিশ্বরেকর্ডে নাম লেখাতেন তিনি—যেখানে এক টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করার কীর্তি কেবল এই তিনজনের দখলে।
পরবর্তীতে মেহেদী হাসান মিরাজ ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং করে রানের চাকা সচল রাখেন। তার ২৭ বলে ২৪ রানের ক্যামিও ইনিংসটি বাংলাদেশকে দ্রুত লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করে। শেষ দিকে দ্রুত কিছু উইকেট হারালেও ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের ২৭ রানের লিড যোগ হয়ে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ২৬৮। এখন দেখার বিষয়, মিরপুরের স্পিন ও পেস আক্রমণের মুখে পাকিস্তান এই রান তাড়া করতে পারে নাকি জয়ের হাসি হাসবে বাংলাদেশ।
