বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ সকালে দেশের বাজারে সোনার দাম কমার নতুন তথ্য জানিয়েছে, যার ফলে টানা দুই দিনের ব্যবধানে ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা পর্যন্ত দাম হ্রাস পেয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, মূলত স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (প্যুর গোল্ড) দাম কমার কারণে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে, তবে এর নেপথ্যে মূল চালিকাশক্তি হলো আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক বাজারে অব্যাহত সোনার দরপতন। আজ সকাল ১০টা থেকে নতুন নির্ধারিত এই দর কার্যকর হয়েছে, যা গহনা ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। নতুন এই মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা কিনতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কম খরচ হবে, যার ফলে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। পাশাপাশি, অন্যান্য মানের সোনায়ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দাম কমানো হয়েছে; যার মধ্যে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমে নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৮০৮ টাকা হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকায় নেমে এসেছে এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনার পাশাপাশি রুপার বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে এবং রুপার দামও কিছুটা কমানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা হয়েছে এবং ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা। উল্লেখ্য, বাজুস কর্তৃক নির্ধারিত সোনা ও রুপার এই নতুন বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট এবং মজুরি যুক্ত রয়েছে, যা স্থান ও প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। বিশ্ববাজারে চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও আউন্সপ্রতি সোনার দাম হ্রাসের প্রভাব যে দেশের অভ্যন্তরীণ বুলিয়ন মার্কেটেও সরাসরি পড়ছে, আজকের এই বড় ধরনের মূল্যহ্রাস তারই স্পষ্ট প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি, ডলারের মূল্যমানের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তোলার প্রবণতার কারণে বিশ্ববাজারে সোনার দামে এই অস্থিরতা চলছে, যার ফলে দেশের বাজারেও চাহিদা ও সরবরাহের সমীকরণ বজায় রাখতে এ ধরনের সমন্বয় করতে হচ্ছে। ঈদ কিংবা উৎসবের বাইরেও সাধারণ ক্রেতারা এই দাম কমার খবরে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এবং সামনের দিনগুলোতে বাজার পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে।
