জাতীয় সংসদে অর্থবিল ২০২৬ পাসের মাধ্যমে দেশের মধ্যবিত্ত ও সাধারণ করদাতাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির ঘোষণা এসেছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়ের সীমা আগের সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে চার লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়কালে কোনো ব্যক্তির বার্ষিক আয় চার লাখ টাকা পর্যন্ত হলে তাকে কোনো আয়কর দিতে হবে না। এর পরবর্তী তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর ১০ শতাংশ হারে আয়কর ধার্য করা হয়েছে। মূলত বাজেট অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ অনুরোধ এবং সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই নতুন সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করেন, যা পরে সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়।
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার্থে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন (TIN) বাধ্যতামূলক করার পূর্ববর্তী প্রস্তাবটি পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে সাধারণ গ্রাহকদের নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে কোনো ই-টিআইএন সনদ জমা দিতে হবে না। একই সঙ্গে জমি ও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন, বন্টননামা দলিল সম্পাদন এবং সম্পত্তির মিউটেশনের ক্ষেত্রেও টিআইএন দাখিলের বিধান শিথিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ বিভ্রান্তি ও ভীতি তৈরি হয়েছিল। সরকারের এই সময়োপযোগী ও জনবান্ধব সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন মূল্যস্ফীতির এই কঠিন সময়ে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা কিছুটা লাঘব হবে, অন্যদিকে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ এবং অন্যান্য নাগরিক ও আইনি প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
