চলমান ভয়াবহ গ্যাস-সংকটের পাশাপাশি কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহে ঘাটতি এবং হঠাৎ দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে গতকাল ৬২টির উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২০টি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল এবং বাকিগুলো সীমিত ক্ষমতায় চলেছে। তপ্ত গরমের দিনে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘ এক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিং চলার পর সরকারি নির্দেশনায় সম্প্রতি ঢাকাতেও এলাকাভেদে দিনে এক ঘণ্টার নির্ধারিত লোডশেডিং চালু করা হলেও বাস্তবে সরবরাহের ঘাটতির কারণে তা একাধিকবার অতিক্রম করছে। ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিপিডিসি ও ডেসকো নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা করলেও চাহিদা ও জোগানের বড় পার্থক্যের কারণে ঢাকাবাসীকে দৈনিক একাধিকবার লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের এই অনিশ্চয়তার পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের সংকট যোগ হওয়ায় সাধারণ মানুষকে লিফটে আটকে পড়ার ভয় এবং অতিরিক্ত খরচে এলপিজি সিলিন্ডার কিনে দৈনন্দিন জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
