টানা দাবদাহে পুড়তে থাকা রাজশাহীর তপ্ত আকাশে অবশেষে দেখা মিলল কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই অঝোর ধারা কেবল জনজীবনে স্বস্তিই ফেরায়নি, বরং জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আমসহ কৃষি খাতে আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শনিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত জেলায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বছরের মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। আবহাওয়া পর্যবেক্ষক তারেক আজিজ জানিয়েছেন, বড় কোনো ঝড় ছাড়াই এই বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবং বাতাসের গতিবেগ ১০ থেকে ১২ কিলোমিটারের মধ্যে থাকায় ফসলের কোনো ক্ষতি হয়নি, উল্টো তাপমাত্রা কমে আসায় প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে তার চিরচেনা রূপ।
এপ্রিল মাসজুড়েই রাজশাহীর ওপর দিয়ে বয়ে গেছে তীব্র তাপপ্রবাহ। গত ২২ এপ্রিল জেলার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দেশের অন্যান্য স্থানে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও রাজশাহীবাসী কেবল আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখে আক্ষেপ করেছেন। দীর্ঘ অনাবৃষ্টির ফলে আম ঝরে পড়া নিয়ে চাষিরা যখন চরম উৎকণ্ঠায় ছিলেন, ঠিক তখনই এই বৃষ্টি যেন তপ্ত ভূমিতে সঞ্জীবনী সুধা ঢেলে দিল। পুঠিয়া উপজেলার আমচাষিরা জানিয়েছেন, এই বৃষ্টির ফলে আমের বোঁটা শক্ত হবে এবং ফল দ্রুত পরিপুষ্ট হবে। শুধু আম নয়, এই বৃষ্টি পাটের জন্য সবথেকে বেশি উপকারী প্রমাণিত হয়েছে। বৃষ্টির অভাবে পাটগাছগুলো যখন শুকিয়ে যাচ্ছিল, তখন এই প্রাকৃতিক জলসিঞ্চন নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
অন্যদিকে, পবা উপজেলার কৃষকদের কণ্ঠেও এখন স্বস্তির সুর। মাঠে থাকা আধপাকা ধানের জন্য যে বাড়তি সেচের প্রয়োজন ছিল, বৃষ্টির কারণে সেই দুশ্চিন্তা এখন দূর হয়েছে। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের মতে, কোনো প্রকার শিলাবৃষ্টি বা কালবৈশাখী ঝড় ছাড়া এমন শান্ত বৃষ্টি আমের জন্য মহৌষধের মতো কাজ করবে। নগরের ধুলোবালি ধুয়ে গিয়ে গাছপালা যেমন সতেজ ও সবুজ হয়ে উঠেছে, তেমনি মাঠের অন্যান্য ফসলও এই বৃষ্টির ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সব মিলিয়ে এই বৃষ্টি যেন বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের জন্য পরম পাওয়া, যা আগামী দিনে বাম্পার ফলনের স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করে তুলল।
