চট্টগ্রামে টানা আট দিনে ১ হাজার ৪৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত দেশের আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত ১৯৫৩ সালের পর একটানা আট দিনের হিসাবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বৃষ্টির পরিমাণ নয়, একই সময়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রায় সব আবহাওয়া কেন্দ্রে ব্যাপক বর্ষণ হওয়াই এবারের ঘটনাকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।
চট্টগ্রামের পাশাপাশি কক্সবাজার, বান্দরবান, সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, টেকনাফ ও রাঙামাটিতেও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই আট দিনে বান্দরবানে ১ হাজার ১০২ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ৮৪৬ মিলিমিটার এবং সন্দ্বীপে ৭৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা দেশের অতি ভারী বৃষ্টির নির্ধারিত মাত্রার অনেক বেশি।
গবেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দীর্ঘ খরা, অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ এবং হঠাৎ অতিবৃষ্টির ধারাবাহিকতা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। গত এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হলেও জুনে বৃষ্টিপাত ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে কম, একই সঙ্গে কয়েক দফা তাপপ্রবাহও দেখা গেছে। সেই ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ উদাহরণ জুলাইয়ের এই টানা বর্ষণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে। তাই দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, কার্যকর নগর পরিকল্পনা এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
