মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও বিশেষ সিলমোহর উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পরবর্তী এই বিশেষ দিনে দেশের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার নিয়ে এই ডাকটিকিটগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এই বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও উদ্বোধনী খাম প্রস্তুত করেছে। প্রধানমন্ত্রী ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট, ১০ টাকার একটি উদ্বোধনী খাম এবং ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করে ডাকটিকিটগুলো ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেন। এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বাধীনতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান এবং অগণিত শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই স্মারক ডাকটিকিটগুলো আমাদের ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়কে ধারণ করে। এটি নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বার্তা পৌঁছে দেবে। ডাকটিকিট সংগ্রহের মাধ্যমে ইতিহাস সংরক্ষণ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য তিনি তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
ডাক বিভাগ সূত্রে জানানো হয়েছে, উদ্বোধনী খাম ও স্মারক ডাকটিকিটগুলো আজ থেকেই ঢাকা জিপিও’র ফিলাটেলিক ব্যুরো থেকে সংগ্রহ করা যাবে। পরবর্তীতে এগুলো দেশের সব প্রধান ডাকঘর এবং জেলা পর্যায়ের অফিসগুলোতে পাওয়া যাবে। বিশেষ এই সিলমোহরটি শুধুমাত্র উদ্বোধনী দিনের জন্য নির্দিষ্ট খামে ব্যবহারের সুযোগ থাকছে, যা ফিলাটেলিস্ট বা ডাকটিকিট সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে।
স্বাধীনতা দিবসের এই বিশেষ উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রীয় এই বিশেষ প্রকাশনাগুলো আমাদের জাতীয় গৌরবের স্মারক হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সংরক্ষিত থাকবে।
