April 16, 2026
image (3)

ময়মনসিংহ অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেকহ) গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে আরও ৩৩টি শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের বিশেষায়িত আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট ৮৮টি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এই নতুন রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই হামের লক্ষণ নিয়ে রোগী ভর্তি হতে শুরু করলেও গত ১৭ মার্চ থেকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত মোট ৫১৫টি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪১৪ জন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ পর্যন্ত ১৩টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১১টি শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ৬৪ শয্যার একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতাল প্রশাসন তিনটি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করেছে, যারা সার্বক্ষণিকভাবে শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, নতুন করে ৩৩ জন ভর্তি হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, যা কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ যা দ্রুত শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা শিশুদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এবং অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই চিত্রটি সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি সতর্কবার্তা। দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছেন এবং আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ সেবা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *