পশ্চিমা দেশগুলোর নানামুখী নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক বাধা উপেক্ষা করেই বিশ্ববাজারে আধিপত্য ধরে রেখেছে চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি (EV)। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে চীনের বৈদ্যুতিক যান রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেকর্ড ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক ইভি বাজারে চীনের শীর্ষ অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ব্লুমবার্গের তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, কেবল এপ্রিল মাসেই চীন ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮১টি ইভি রপ্তানি করেছে। ফলে বছরের প্রথম চার মাসেই দেশটির মোট রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ লাখের কাছাকাছি। মহাদেশভিত্তিক হিসাবে চীনা গাড়ির সবচেয়ে বড় বাজার এখন এশিয়া, যেখানে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি গাড়ি। এরপরেই রয়েছে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকা। বিশেষ করে ব্রাজিলে চীনা ইভির চাহিদা বেড়েছে আকাশচুম্বী ২২১ শতাংশ। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়াতেও আমদানি বেড়েছে ১০০ থেকে ১৯০ শতাংশ পর্যন্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যের যে অস্থিরতা চলছে, তা মানুষকে বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে। সাশ্রয়ী খরচ এবং পরিবেশবান্ধব হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন ইভি-কেই বেছে নিচ্ছেন।
সবচেয়ে আশশ্চর্যের বিষয় হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনা ইভিতে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ও সফটওয়্যার নিষিদ্ধ করা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৩৫.৩ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো সত্ত্বেও চীনের এই জয়যাত্রা থামানো যায়নি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইভির প্রায় ৭৫ শতাংশই তৈরি হচ্ছে চীনে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক ইভি বিক্রি ২ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার একটি সিংহভাগই থাকবে চীনের নিয়ন্ত্রণে।
