রাজশাহীর মাদার বখ্শ্ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে উন্নয়নের অজুহাতে ৩৩ বছরের পুরোনো ২৫টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৯৯২ সালে রোপণ করা পলাশ, কৃষ্ণচূড়া, মেহগনি ও কদমসহ বিভিন্ন দুর্লভ ও ফলজ গাছগুলো মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করে দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ২১ মে এই গাছগুলো কেটে ফেলার কথা রয়েছে।
কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতে, এই গাছগুলো কেবল প্রাকৃতিক শোভাই বর্ধন করে না, বরং ক্যাম্পাসের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বসন্তে পলাশ আর গ্রীষ্মে কৃষ্ণচূড়ার সমারোহে কলেজ প্রাঙ্গণে যে নান্দনিক পরিবেশ তৈরি হতো, তা এখন বিলীন হওয়ার পথে। অনেকে অভিযোগ করেছেন, বিশাল আয়তনের এই গাছগুলোর যে বাজারমূল্য, তার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য দামে এগুলো বিক্রি করা হয়েছে।
কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাঠের পাশে নতুন ভবন নির্মাণের কারণে মাঠ সংকুচিত হয়ে আসবে, যার ফলে এক সারির গাছগুলো কেটে ফেলা জরুরি হয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বন বিভাগের কাছে গাছের মূল্যায়ন চেয়ে আবেদন করলে তারা মাত্র ৭০ হাজার ৬৯৩ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। পরবর্তীতে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিপ্লব রহমান নামে এক ব্যক্তি ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় গাছগুলো কিনে নেন। যদিও নিলামে অংশ নেওয়া ৪১ জনের মধ্যে একটি সিন্ডিকেট কাজ করেছে বলে খোদ অধ্যক্ষ সালমা শাহাদাত ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, দেড় লাখ টাকা আশা করলেও সিন্ডিকেটের কারণে দাম বাড়েনি।
গাছগুলোর তালিকায় রয়েছে বিরল ও ঔষধি গুণসম্পন্ন হরীতকী, বহেরা, অর্জুন, আমড়া ও বকুল। সরেজমিনে দেখা গেছে, কাটার উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে গাছগুলোতে নাম্বারিং করা হয়েছে। হলের সামনে থাকা ছায়াদানকারী বড় কদম গাছটিও রেহাই পাচ্ছে না এই নিধনযজ্ঞ থেকে। শিক্ষকরা আক্ষেপ করে বলছেন, এই গাছগুলো ক্যাম্পাসের ফুসফুসের মতো ছিল। অথচ নামমাত্র মূল্যে বন বিভাগ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ পরিবেশের এই অপূরণীয় ক্ষতির দিকে হাঁটছে।
তবে বন বিভাগ জানিয়েছে, তারা কেবল সরকারি বিধি মোতাবেক সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে, বিক্রির দায়ভার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠানের। অন্যদিকে, কলেজ অধ্যক্ষের দাবি, ভবন নির্মাণের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা প্রতিবছর গাছ রোপণ করেন এবং পলাশ গাছটি কাটা পড়ার আগেই নতুন চারা লাগানো হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে শতবর্ষী হওয়ার পথে থাকা এই বিশাল বৃক্ষগুলোর অভাব নতুন চারা দিয়ে কতটুকু পূরণ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
