দীর্ঘদিন ধরে সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে আসা উন্নয়ন সহযোগী দেশ জাপান সম্প্রতি তাদের ঋণের সুদের হার বাড়িয়েছে। জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের মুদ্রানীতিতে পরিবর্তন আনায় এবং দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক সুদের হার থেকে সরে আসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় দুঃসংবাদ, কারণ দেশের মেগা প্রকল্পগুলোর একটি বিশাল অংশ জাপানি ঋণের ওপর নির্ভরশীল। মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা (JICA) অর্থায়ন করছে। সুদের হার বাড়ার ফলে ঋণের কিস্তি পরিশোধের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা সরাসরি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এতদিন জাপানি ঋণকে সবচেয়ে সাশ্রয়ী মনে করা হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতার মাঝে এই বাড়তি সুদের হার বাংলাদেশের বাজেটে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর যখন ঋণের আসল ও সুদ একসাথে পরিশোধ করতে হবে, তখন এই চাপের প্রকৃত রূপ প্রকাশ পাবে। সরকারের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হলো বৈদেশিক ঋণের উৎস বহুমুখী করা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করা, যাতে করে এই বাড়তি আর্থিক দায়ভার সামলানো সম্ভব হয়। জাপানের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
