May 9, 2026
image - 2026-05-09T161642.104

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তুলতে শিক্ষাক্রম এবং শিক্ষাপঞ্জিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। আজ শনিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘চীন–বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা ফোরাম–২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একইসঙ্গে তিনি জানান, দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পাঁচ শতাংশ বরাদ্দের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা খাতের আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, পাঠ্যসূচি ও শিক্ষাক্রমের গুণগত পরিবর্তন আনার পাশাপাশি শিক্ষাবর্ষ বা শিক্ষাপঞ্জিও পুনর্বিন্যাস করা হবে। এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সংগতি রেখে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা।

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে সবার আগে শিক্ষকদের মানোন্নয়ন জরুরি।” এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের যে সেতুবন্ধ তৈরি হয়েছে, তার মূল ভিত্তি হবে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়।

চীন দূতাবাস এবং চায়না–বাংলাদেশ এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে শিক্ষা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে একাধিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। এতে দুই দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রযুক্তি ও জ্ঞান আদান-প্রদানের পথ আরও সুগম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা শিক্ষা ও প্রযুক্তিবিষয়ক একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, ইউজিসি চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ এবং বুয়েট উপাচার্য এ বি এম বদরুজ্জামান। বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, কারিগরি ও উচ্চশিক্ষার প্রসারে এই ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *