June 15, 2026
image (12)

অধিকাংশ মা-বাবাই চিন্তিত কারণ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্ক্রিনে কাটানো সময়ের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। ভিডিও দেখা, গেম খেলা, বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাট করা বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা- যা-ই হোক না কেন, ডিজিটাল ডিভাইসগুলো দৈনন্দিন জীবনের একটি অনেক বড় অংশ। প্রযুক্তি অনেক সুবিধা দিলেও, অভিভাবকদের জানতে হবে কখন স্ক্রিনের ব্যবহার স্বাস্থ্যকর এবং কখন এটি শিশুর সুস্থতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

সিওপি (চাইল্ড অনলাইন প্রোটেকশন) প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অ্যাপের মনোবিজ্ঞানী সিন্ধু ইউ ওয়াধওয়ার মতে, স্ক্রিন টাইম নিয়ে আলোচনায় ঘণ্টার হিসাব রাখার চেয়ে স্ক্রিন কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তা শিশুর দৈনন্দিন জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করছে, তা বোঝার ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

বিষয়টি আরও ব্যাখ্যা করে মিসেস ওয়াধওয়া বলেন, শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু, সৃজনশীল কার্যকলাপ, নতুন দক্ষতা শেখা বা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা- এগুলো সবই ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হতে পারে। উদ্বেগের কারণ তখনই দেখা দেয় যখন স্ক্রিনের ব্যবহার ঘুম, শারীরিক কার্যকলাপ, সামাজিক মেলামেশা এবং সুস্থ বিকাশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোকে প্রতিস্থাপন করতে শুরু করে।

অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে যে বিষয়গুলো প্রথমে প্রভাবিত হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো মনোযোগ এবং একাগ্রতা। ক্রমাগত ছোট আকারের ও দ্রুতগতির কন্টেন্টের সংস্পর্শে থাকলে শিশুদের পক্ষে ধৈর্য এবং একটানা মনোযোগের প্রয়োজন হয় এমন কাজ, যেমন- পড়াশোনা করা বা স্কুলের কাজ শেষ করার ক্ষেত্রে মনোনিবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার শিশুর মানসিক ও আবেগিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বাবা-মায়েরা বিরক্তি, হতাশা বা মেজাজের আকস্মিক পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারেন, বিশেষ করে যখন ডিভাইসগুলো কেড়ে নেওয়া হয় বা স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সীমিত করা হয়। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং অনলাইনে অন্যদের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করার প্রবণতার কারণ হতে পারে।

ঘুম হলো আরেকটি ক্ষেত্র যা বেশিরভাগ সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক শিশু গভীর রাত পর্যন্ত স্ক্রিন ব্যবহার করে, যার ফলে তাদের মস্তিষ্কের পক্ষে বিশ্রাম নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অপর্যাপ্ত ঘুম মেজাজ, কর্মশক্তি, মনোযোগ এবং সামগ্রিক মানসিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

মানসিক প্রভাব ছাড়াও, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম বাস্তব জগতের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও কমিয়ে দিতে পারে। মুখোমুখি কথোপকথন, বাইরে খেলাধুলা এবং পারিবারিক কার্যকলাপ শিশুদের যোগাযোগ দক্ষতা, সহানুভূতি, আত্মবিশ্বাস এবং ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বিকাশে সাহায্য করে। ডিজিটাল জগৎ যতই সংযুক্ত হোক না কেন, এই অভিজ্ঞতাগুলো অপরিহার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *