July 29, 2026
Screenshot 2026-07-29 184212

মিয়ানমারে একক বা সর্বজনগ্রাহ্য কেন্দ্রীয় সরকার না থাকার বর্তমান বাস্তবতাকে নিজেদের রাজনৈতিক ও সামরিক স্বার্থে অত্যন্ত চতুরতার সাথে কাজে লাগাচ্ছে দেশটির জান্তা সরকার। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে সংঘাতপূর্ণ এ দেশে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও জাতিগত সশস্ত্র দল অঞ্চলভেদে স্বায়ত্তশাসন চালালেও, জান্তা সরকার এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা বিশ্ববাসীকে বোঝাতে চাইছে যে, সামরিক বাহিনী ছাড়া পুরো দেশটি সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে রাখা বা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা অসম্ভব। একই সাথে, জান্তা বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘাটতিকে পুঁজি করে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নিজেদেরই দেশটির একমাত্র আইনানুগ বা টেকসই শাসক দল হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চালাচ্ছ। বিরোধী ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্মেন্ট (এনইউজি) এবং বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা স্বায়ত্তশাসিত স্বশস্ত্র বাহিনীগুলো স্থানীয়ভাবে বেশ কিছু প্রশাসনিক সুবিধা অর্জন করলেও, একটি সমন্বিত কেন্দ্রীয় কাঠামো গঠনে সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। বৈশ্বিক কূটনৈতিক মহলেও জান্তা এই ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হচ্ছে যে, তাদের পতন ঘটলে মিয়ানমার একটি চরম বিশৃঙ্খল ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। ফলে অনেক প্রতিবেশী ও প্রভাবশালী দেশ তাদের নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক বিনিয়োগের সুরক্ষায় জান্তার সাথে পরোক্ষ যোগাযোগ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও সুবিধাজনক ধারণা একদিকে যেমন জান্তাকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক নমনীয়তা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা যোগাচ্ছে, অন্যদিকে মিয়ানমারে একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে প্রতিনিয়ত আরও জটিল করে তুলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *