বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হওয়া পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি) ফিল্মের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে ভারত। খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী ও বিভিন্ন শিল্পপণ্যের মোড়ক তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এই প্লাস্টিক ফিল্মের বিরুদ্ধে ভারতীয় উৎপাদকদের অভিযোগের ভিত্তিতে দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত বাণিজ্য প্রতিকার মহাপরিদপ্তর (ডিজিটিআর) এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতীয় শিল্পমালিকদের দাবি, বাংলাদেশ, চীন ও থাইল্যান্ড থেকে স্বাভাবিক উৎপাদন খরচের চেয়ে কম বা ডাম্পিং মূল্যে পিইটি ফিল্ম ভারতের বাজারে সর্বরাহ করা হচ্ছে, যা তাদের স্থানীয় শিল্পকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই অভিযোগ যাচাই এবং শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ৬ আগস্ট ডিজিটিআর ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে একটি মৌখিক শুনানির আয়োজন করেছে, যেখানে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য পক্ষগুলোকে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
পাট ও পাটজাত পণ্যের পর নতুন করে এই ক্যাটাগরির পণ্য ভারতের তদন্তের আওতায় আসায় দুদেশের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্টরা। ইতিপূর্বে ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশি পাটজাত পণ্যের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক বলবৎ রেখেছে ভারত, যার প্রভাবে দেশটিতে বাংলাদেশের পাট রপ্তানি নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছিল। দেশীয় পাট খাতের ক্ষতির ধাক্কা সামলে ওঠার মাঝেই নতুন এই রাসায়নিক মোড়ক পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপিত হলে তা বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা ভারতের শুনানিতে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরে সম্ভাব্য এই শুল্ক বাধা এড়ানোর কূটনৈতিক চেষ্টা চালাচ্ছেন।
