May 5, 2026
image (11)

দেশের সাধারণ মানুষের পকেটে আরও একবার টান পড়তে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ পাইকারি ও খুচরা—উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে। সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত দামের হার বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে শুরু করে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ গ্রাহক বা খুচরা পর্যায়ে এই দাম সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে। মূলত উৎপাদন খরচ ও ভর্তুকি সমন্বয়ের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই মূল্যবৃদ্ধি সবার জন্য সমান হবে না। বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে গ্রাহকদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হবে এবং সেই অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হবে। তবে একটি স্বস্তির খবর হলো, যারা ‘লাইফ লাইন’ গ্রাহক অর্থাৎ অত্যন্ত স্বল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের এই বাড়তি দামের আওতাভুক্ত করা হয়নি। নিম্নবিত্ত মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বিতরণ কোম্পানিগুলো বিইআরসির কাছে দাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করে। সেই ধারাবাহিকতায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সহ অন্যান্য বিতরণকারী সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে তাদের নিজ নিজ প্রস্তাব পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করছে। কমিশন এখন এই প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করবে এবং গণশুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। যদি এই প্রস্তাব পাশ হয়, তবে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলের অংক আরও এক ধাপ বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *