ফরিদপুরের মধুখালীতে সম্প্রতি গণপিটুনির শিকার হয়ে নিহত ট্রাকচালক হাশেম মিয়ার শিশুসন্তান ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান তালুকদার নিহতের বাড়িতে গিয়ে এই আর্থিক সহায়তা ও মানবিক উপহার পৌঁছে দেন। গত মাসে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতার নির্মম প্রহারে প্রাণ হারান হাশেম মিয়া, যার ফলে তার পরিবারটি হঠাৎ করেই চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই পরিবারকে বিশেষ সহায়তার নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিহত হাশেমের শিশুসন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় অঙ্কের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারটিকে জরুরি খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
সহায়তা প্রদানকালে জেলা প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রী এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শিশুটির শিক্ষা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, ফরিদপুরে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। হাশেমের স্ত্রী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রীর এই মহানুভবতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “স্বামীর মৃত্যুতে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু আমাদের বিপদের দিনে খোদ প্রধানমন্ত্রীর এই ভালোবাসা ও সহায়তা আমাদের বেঁচে থাকার নতুন পথ দেখিয়েছে।” স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রতিবেশীরাও সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, যা একটি অসহায় পরিবারের পুনর্বাসনে বড় ভূমিকা রাখবে। এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, প্রান্তিক মানুষের যেকোনো সংকটে রাষ্ট্র ও তার সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সবসময় সজাগ এবং সহানুভূতিশীল।
