চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর তা সম্পূর্ণ শেষ হতে ১০ মাস থেকে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।
সচিবালয়ে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, “নির্বাচন আয়োজনের জন্য কিছু প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে, এ বছরের শেষ দিক থেকেই ধাপে ধাপে নির্বাচনগুলো শুরু করা সম্ভব হবে।”
সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করা হতে পারে বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন উপদেষ্টা। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, উপজেলা পরিষদ বাতিল করার কোনো সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকার গ্রহণ করেনি। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
এছাড়া, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের বসার জন্য আলাদা কক্ষ বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিষদের ক্ষমতা খর্ব হয়েছে—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং কাজের সমন্বয় ও গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত এই ধরণের ব্রিফিং অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
পর্যায়ক্রমে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান সরকারের। নির্বাচনী এই রোডম্যাপ ঘোষণার ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
