সম্প্রতি স্টেডিয়ামে টিকিট ছাড়াই অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ‘টেইলগেটিং’ বা অন্যের পিছু নিয়ে বিনা টিকিটে ঢোকার অপরাধে প্রথম কোনো বড় ধরনের আইনি সাজা। সাধারণত বড় ফুটবল ম্যাচ বা কনসার্টে দেখা যায়, একদল দর্শক বৈধ টিকিটধারী ব্যক্তির ঠিক পেছনে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে গেট পার হয়ে যায়। এই প্রবণতা রোধে কর্তৃপক্ষ এখন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। মূলত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই কড়াকড়ি শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেইলগেটিং কেবল একটি সাধারণ নিয়ম লঙ্ঘন নয়, বরং এটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ মাঠে প্রবেশ করলে পদদলিত হওয়ার মতো দুর্ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এছাড়া, টিকিট বিক্রি থেকে আসা রাজস্ব হারানোও আয়োজকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং উন্নত ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির সাহায্যে এখন সহজেই এসব অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে যে, এই প্রথম সাজার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বার্তা দেওয়া হয়েছে—বিনা টিকিটে মাঠে ঢোকা এখন থেকে কেবল জরিমানা নয়, বরং কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। স্টেডিয়ামে দর্শকদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং ব্ল্যাক মার্কেটিং ও অবৈধ অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করতে ভবিষ্যতেও এমন কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। কর্তৃপক্ষের এই কঠোর অবস্থানে সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখালেও, নিরাপত্তার স্বার্থে একে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
