দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ মজুতদারদের সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। গত ৩ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত দেশব্যাপী পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৬ দিনে দেশের ৬৪টি জেলায় মোট ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা মোট ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত তেলের মধ্যে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৫ লিটার ডিজেল, ২২ হাজার ৫৩৯ লিটার অকটেন এবং ৪৬ হাজার ১৪৬ লিটার পেট্রল রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, কেবল তেল উদ্ধারই নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই সংক্রান্ত ১ হাজার ৫৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে ১৬টি মামলায় জড়িতদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ মজুতকারীদের কাছ থেকে মোট ৭৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের বাজার অস্থির করার চেষ্টা করছিল। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি ও পরিবহন খাতে অতিপ্রয়োজনীয় ডিজেলের মজুত উদ্ধারের বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযান চলমান থাকবে। ভবিষ্যতে কোনো ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান যেন জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত করার সাহস না পায়, সেজন্য নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
