অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের হাওর ও নদ-নদীতে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ মৌসুমের সর্বোচ্চ। একইসঙ্গে সুরমা নদীর পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বেড়ে যাওয়ায় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধগুলো চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। কৃষকের চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে কষ্টের ফসল, দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওর পাড়ের হাজারো পরিবার।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে এ বছর দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ফসলের ৪৪ শতাংশ কাটা হয়েছে, তবে বাকি অর্ধেকের বেশি ফসল এখন প্রকৃতির খামখেয়ালির ওপর নির্ভর করছে। এরই মধ্যে জেলার মধ্যনগর উপজেলায় ইকরাছই হাওরের বাঁধ এবং গুজাউনি বাঁধ ভেঙে পানি হাওরে ঢুকে পড়েছে। এছাড়া বিশ্বম্ভরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধগুলোও চাপের মুখে রয়েছে।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, একদিকে বৈরী আবহাওয়া, অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকট—সব মিলিয়ে ধান কাটা ও মাড়াই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কৃষক পাকা ধান জমিতে রেখেই প্রাণ বাঁচাতে পারছেন না, আবার কেউ কেউ ধান কাটলেও তা শুকানোর জায়গা পাচ্ছেন না। জগন্নাথপুরের কৃষক সারদা চরণ দাসের মতো অনেকেই ১৬ বিঘা জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য কেবল চেয়ে দেখছেন। মাঠের অবস্থা এতই নাজুক যে হারভেস্টর মেশিনও অনেক এলাকায় চালানো যাচ্ছে না।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিন সুনামগঞ্জ ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুর্যোগময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সব বাঁধে নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, সংকটময় পরিস্থিতিতে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে প্রকৃতির এই বিরূপ পরিস্থিতিতে কৃষকদের উদ্বেগ কাটছে না। হাওরের ধান রক্ষায় আগামী ৪৮ ঘণ্টা জেলা প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল যদি অব্যাহত থাকে, তবে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
